ক) তৎপুরুষ সমাস
খ) কর্মধারয় সমাস
গ) বহুব্রীহি সমাস
ঘ) অব্যয়ীভাব সমাস
✅ সঠিক উত্তর: ক) তৎপুরুষ সমাস
📘 ব্যাখ্যা:
“দুর্ভিক্ষ” শব্দটি গঠিত হয়েছে—
দুর্ = একটি উপসর্গ, যার অর্থ “খারাপ”, “কঠিন”, “অভাবপূর্ণ”
ভিক্ষ = চাওয়া, প্রার্থনা বা খাদ্যের জন্য ভিক্ষা করা (আধুনিক অর্থে: খাদ্যের অভাব)
👉 দুর্ + ভিক্ষ = দুর্ভিক্ষ
👉 অর্থ: খাদ্যের তীব্র অভাব, এমন অবস্থা যখন ভিক্ষা চেয়েও খাদ্য পাওয়া যায় না।
এখানে “দুর্” একটি উপসর্গ, যা ভিক্ষ শব্দকে দুঃসহ, অপ্রাপ্তিযোগ্য বা কঠিন করে তুলেছে।
এই ধরণের গঠনে উপসর্গ ও মূলপদের সমন্বয়ে যে সমাস হয়, তা হলো উপপদ তৎপুরুষ সমাস, যা তৎপুরুষ সমাস-এর একটি উপপ্রকার।
✳️ তৎপুরুষ সমাসের বৈশিষ্ট্য (উপপদ তৎপুরুষ):
একটি উপসর্গ + মূল পদ থাকে
সমাসপদে সাধারণত কোনো বিভক্তি থাকে না
অর্থে থাকে: “যা দুঃখজনকভাবে ভিক্ষা চাওয়ার মতো” বা “যেখানে ভিক্ষা করেও কিছু পাওয়া যায় না”
উপসর্গ পদটি পূর্বে এবং মূল শব্দটি পরে থাকে
✅ আরও উদাহরণ (উপপদ তৎপুরুষ সমাস):
দুর্জন = দুষ্ট মানুষ
সুবুদ্ধি = ভালো বুদ্ধি
দুর্ভিক্ষ = দুঃসহ খাদ্যাভাব
সুখদুঃখ = আনন্দ ও বেদনা (দ্বন্দ্বেও হতে পারে প্রসঙ্গভেদে)
✅ উপসংহার:
“দুর্ভিক্ষ” একটি উপপদ তৎপুরুষ সমাস,
যার অর্থ — চরম খাদ্যাভাব, এমন এক পরিস্থিতি যেখানে খাদ্য পাওয়া অত্যন্ত কঠিন।
📘 মনে রাখো:
উপসর্গ + নাম/ক্রিয়া/বিশেষ্য → যদি অর্থে বিশেষ সম্পর্ক তৈরি করে এবং ভাঙলে উপসর্গ স্বতন্ত্রভাবে বোঝায়, তাহলে সেটা উপপদ তৎপুরুষ।