ক) তৎপুরুষ সমাস
খ) কর্মধারয় সমাস
গ) বহুব্রীহি সমাস
ঘ) অব্যয়ীভাব সমাস
🔎 সঠিক উত্তর: ক) তৎপুরুষ সমাস
📘 ব্যাখ্যা :
“জলকর” শব্দটি গঠিত হয়েছে “জল” + “কর” — এই দুটি শব্দ থেকে।
“জল” অর্থ — পানি বা জল,
“কর” অর্থ — কর বা রাজস্ব (যা সরকারকে প্রদান করা হয়)।
“জলকর” অর্থ দাঁড়ায় — জলের উপর ধার্য করা কর। অর্থাৎ, কেউ যদি জলসম্পদ ব্যবহার করে বা জলভিত্তিক কোনো কাজ করে, তার ওপর যে রাজস্ব দিতে হয়, তাকেই বলা হয় জলকর।
এখানে “জল” হলো করের উৎস বা সম্পত্তি, আর “কর” হলো মূলপদ। “জলের কর” — এই অর্থ প্রকাশের জন্য জল শব্দটি “কর”-এর উপর ষষ্ঠী বিভক্তি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এ ধরনের গঠনে যেখানে প্রথম পদ দ্বিতীয় পদের উপর ষষ্ঠী (—এর) সম্পর্ক বোঝায়, তাকে বলা হয় ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।
✍️ ভূমিকা:
সমাস বাংলা ভাষায় এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাকরণিক বিষয়, যা শব্দসংক্ষেপ ও অর্থবহ শব্দগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তৎপুরুষ সমাস, বিশেষ করে ষষ্ঠী তৎপুরুষ, আমাদের চারপাশে প্রচুর দেখা যায়। এটি মূলত —এর সম্পর্ক বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। “জলকর” এর মাধ্যমে বোঝানো হয় সেই কর যা জলের উপরে নির্ধারিত। এই ধরনের শব্দ প্রশাসনিক, আর্থিক বা প্রাচীন ব্যবস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।
✅ উপসংহার:
সব মিলিয়ে, “জলকর” শব্দটি হলো একটি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস, যা বাংলা ভাষায় কর ও শুল্ক সম্পর্কিত ধারণা প্রকাশে ব্যবহৃত হয়। এটি বাংলা ব্যাকরণের একটি বাস্তব উদাহরণ, যা ভাষার গঠন ও ব্যুৎপত্তিগত সৌন্দর্য তুলে ধরে। শিক্ষার্থীদের জন্য এরকম উদাহরণ ব্যাকরণ শেখাকে সহজ, ব্যবহারিক এবং অর্থবোধক করে তোলে।