ক) তৎপুরুষ সমাস
খ) বহুব্রীহি সমাস
গ) কর্মধারয় সমাস
ঘ) দ্বন্দ্ব সমাস
🔎 সঠিক উত্তর: ক) তৎপুরুষ সমাস
📘 ব্যাখ্যা :
“এতিমখানা” শব্দটি গঠিত হয়েছে “এতিম” + “খানা” এই দুইটি পদ থেকে।
“এতিম” অর্থ — যে শিশুর পিতা-মাতা নেই,
“খানা” অর্থ — ঘর বা আশ্রয়স্থল।
এই দুটি পদ একত্র হয়ে “এতিমখানা” শব্দটি গঠিত করেছে, যার অর্থ দাঁড়ায় — এমন স্থান যেখানে এতিমরা থাকে, অর্থাৎ এতিম শিশুদের আশ্রয়স্থল।
এখানে “এতিম” শব্দটি “খানা” শব্দের উপর ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস হিসেবে যুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ, এতিমদের জন্য যে খানা বা আশ্রয়স্থল। “এতিম” এখানে “খানা”-র অধিকার বা সম্পর্ক প্রকাশ করছে। এ ধরনের অর্থগত সম্পর্ক যেখানে এক পদ অপর পদের সঙ্গে “কার” বা “এর” সম্পর্ক প্রকাশ করে, তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
✍️ ভূমিকা:
বাংলা ব্যাকরণে সমাস শব্দসংক্ষেপণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম, যা ভাষাকে সংক্ষিপ্ত, সরল ও অর্থবহ করে তোলে। তৎপুরুষ সমাস হলো সেই ধরনের সমাস যেখানে একটি পদ অপর পদের উপর নির্ভর করে এবং বিভক্তিহীনভাবে ব্যবহৃত হয়। এই সমাসের বিভিন্ন প্রকারভেদের মধ্যে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, যেখানে সম্পর্ক বা অধিকার বোঝানো হয়। “এতিমখানা” এই প্রকারভেদের একটি যথার্থ উদাহরণ।
✅ উপসংহার:
সবশেষে, “এতিমখানা” শব্দটি একটি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস, যা বাংলা ভাষার গঠনপ্রণালী ও অর্থপ্রকাশের দিক থেকে অত্যন্ত কার্যকরী। এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে ভাষা শুধু ভাব প্রকাশের মাধ্যম নয়, বরং অর্থের গভীরতা, সম্পর্ক ও সাংগঠনিক সৌন্দর্যও বহন করে। তাই সমাস শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাকরণিক অংশ এবং “এতিমখানা” এর একটি জীবন্ত উদাহরণ।