ক) তৎপুরুষ সমাস
খ) বহুব্রীহি সমাস
গ) কর্মধারয় সমাস
ঘ) দ্বিগু সমাস
✅ সঠিক উত্তর: খ) বহুব্রীহি সমাস
বিশদ ব্যাখ্যা:
“করকমল” শব্দটি গঠিত হয়েছে দুটি পদ থেকে:
-
কর = হাত
-
কমল = পদ্ম (ফুল)
এই দুটি পদ একত্রে গঠিত হয়ে তৈরি হয়েছে “করকমল”, যার আক্ষরিক অর্থ দাঁড়ায় পদ্মের মতো হাত। কিন্তু লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, এই শব্দটি কোনো পদ্ম নয়, এবং কোনো সাধারণ হাতও নয়। বরং এটি এমন একজনকে বোঝায় যার হাত পদ্মের মতো সুন্দর, কোমল ও আকর্ষণীয়।
এখানে কোনো একটি নির্দিষ্ট বস্তু বোঝানো হচ্ছে না, বরং যে ব্যক্তির হাতে পদ্মের মতো সৌন্দর্য বা কোমলতা আছে — তাকেই বোঝানো হচ্ছে। অর্থাৎ, যার কর (হাত) কমলের মতো, সেই ব্যক্তি বা সেই গুণ সম্পন্ন কেউ। এই অর্থে শব্দটি একটি বহুব্রীহি সমাস।
বহুব্রীহি সমাস চেনার উপায় ও প্রয়োগ:
বহুব্রীহি সমাস এমন এক ধরনের সমাস যেখানে গঠিত শব্দটি সরাসরি কোনো উপাদান পদকে নির্দেশ করে না, বরং তৃতীয় কোনো ব্যক্তিবিশেষ বা জিনিস বোঝায়, যার মধ্যে উক্ত দুই পদের বৈশিষ্ট্য বর্তমান।
“করকমল” শব্দে,
-
কর = হাত
-
কমল = পদ্ম
→ এই দুই শব্দ মিলিয়ে তৈরি হওয়া “করকমল” কোনো হাত বা কোনো পদ্ম নয়, বরং এমন কেউ যার হাত পদ্মের মতো।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায়:
“রামচন্দ্রের করকমল ছুঁয়ে ধন্য হয়ে গেল মাটি।”
এখানে রামের হাতের প্রশংসা করে বলা হয়েছে — তা পদ্মের মতো। এটা কেবল হাত নয়, একটি গুণবাচক রূপক।
✅ সারাংশ:
-
পদ দুটি → কর + কমল
-
গঠিত অর্থ → পদ্মের মতো হাত
-
নির্দেশ করে → এমন ব্যক্তি যার হাত পদ্মের মতো
👉 তাই এটি বহুব্রীহি সমাস।