ক) তৎপুরুষ সমাস
খ) বহুব্রীহি সমাস
গ) কর্মধারয় সমাস
ঘ) দ্বন্দ্ব সমাস
✅ সঠিক উত্তর: ক) তৎপুরুষ সমাস
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা:
“চলচ্চিত্র” শব্দটি গঠিত হয়েছে “চল” (চলা) + “চিত্র” (ছবি) — এই দুটি পদের সংমিশ্রণে। এখানে প্রধান পদ হলো “চিত্র”, আর “চল” পদটি চিত্রের ধর্ম বা বৈশিষ্ট্য বোঝাচ্ছে — অর্থাৎ, “যে ছবি চলে” বা “চলমান চিত্র”।
এইভাবে প্রথম পদ দ্বিতীয় পদের বিশেষণ বা গুণ বোঝালে এবং দ্বিতীয় পদ মুখ্য হলে — সেটি তৎপুরুষ সমাস, বিশেষ করে বহুবিধ তৎপুরুষ বা কর্মণি তৎপুরুষ বলে ধরা হয়।
বিশদ ব্যাখ্যা:
“চলচ্চিত্র” শব্দটি মূলত দুটি পদ দিয়ে গঠিত:
-
চল = চলমান বা নড়াচড়া করে এমন
-
চিত্র = ছবি
এই দুটি শব্দ একত্রিত হয়ে তৈরি হয়েছে “চলচ্চিত্র”, যার অর্থ দাঁড়ায় — চলমান ছবি বা আন্দোলিত চিত্র। অর্থাৎ, এমন ছবি যা স্থির নয়, বরং একটির পর একটি ছবি দ্রুত পরিবর্তিত হয়ে চলার অনুভূতি তৈরি করে। এক কথায়, এটি “ফিল্ম” বা “মুভি” বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
এখানে “চিত্র” শব্দটি মুখ্য পদ বা প্রধান শব্দ। “চল” শব্দটি “চিত্র”-এর একটি গুণ বা ধর্ম বোঝায়, অর্থাৎ চিত্রটি কেমন — তা “চল” শব্দ দ্বারা ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। এই ধরনের সমাসে যদি প্রথম পদ দ্বিতীয় পদের বিশেষণ বা অবস্থা হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং দ্বিতীয় পদটি মুখ্য হয়, তবে সে সমাসকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
বিশেষভাবে বলতে গেলে, এটি একটি কর্মণি তৎপুরুষ সমাস। কারণ এখানে “যে চিত্র চলে” — এই অর্থ গঠিত হয়েছে। অর্থাৎ, ক্রিয়াকর্তা (চিত্র) যা কিছু করছে (চলা), সেই কর্মবাচ্য রূপটি এখানে নিহিত আছে।
তৎপুরুষ সমাসের বৈশিষ্ট্য এখানে কিভাবে মিলে যাচ্ছে?
-
দ্বিতীয় পদ (চিত্র) মুখ্য → ✅
-
প্রথম পদ (চল) দ্বিতীয় পদের গুণ/ধর্ম বোঝাচ্ছে → ✅
-
পদ দুটি মিলিয়ে একটি নির্দিষ্ট অর্থবোধক নতুন শব্দ গঠিত হচ্ছে → ✅
তাই, “চলচ্চিত্র” শব্দটি নিঃসন্দেহে তৎপুরুষ সমাস, এবং তার অধীনে কর্মণি তৎপুরুষ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ হয়।