ক) দ্বন্দ্ব সমাস
খ) তৎপুরুষ সমাস
গ) বহুব্রীহি সমাস
ঘ) কর্মধারয় সমাস
🔎 সঠিক উত্তর: গ) বহুব্রীহি সমাস
📘 ব্যাখ্যা :
“নীলাম্বর” শব্দটি গঠিত হয়েছে “নীল” + “অম্বর” শব্দ দুটি থেকে।
“নীল” মানে নীল রঙের,
“অম্বর” মানে বস্ত্র বা পোশাক।
এই দুটি পদের সমন্বয়ে “নীলাম্বর” মানে হয় — যার পোশাক নীল, অর্থাৎ নীলবস্ত্র পরিধানকারী ব্যক্তি। এখানে সমাসবদ্ধ পদদ্বয়ের (নীল ও অম্বর) সরাসরি অর্থ বোঝানো হয়নি; বরং একটি ব্যক্তি বোঝানো হয়েছে, যিনি নীল বস্ত্র পরেছেন। এটাই বহুব্রীহি সমাসের মূল বৈশিষ্ট্য।
বহুব্রীহি সমাসে দুটি বা ততোধিক পদের মাধ্যমে অন্য কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে নির্দেশ করা হয়। যেমন:
চক্রপাণি (যার হাতে চক্র আছে),
ত্রিনয়ন (যার তিনটি চোখ আছে)।
ঠিক একইভাবে, “নীলাম্বর” শব্দেও গুণ বা পরিচয়ের ভিত্তিতে অন্য এক ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে। তাই এটি নিঃসন্দেহে বহুব্রীহি সমাস।
✍️ ভূমিকা:
বাংলা ভাষায় সমাস হলো ব্যাকরণের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা ভাষাকে সংক্ষিপ্ত, প্রাঞ্জল ও সৌন্দর্যমণ্ডিত করে তোলে। সমাসের মাধ্যমে একাধিক পদের সংক্ষিপ্ত রূপে একটি অর্থবোধক শব্দ গঠিত হয়। সমাস বিভিন্ন রকমের হতে পারে যেমন: দ্বন্দ্ব, তৎপুরুষ, বহুব্রীহি, কর্মধারয় প্রভৃতি। এর মধ্যে বহুব্রীহি সমাস তুলনামূলকভাবে একটু জটিল, কারণ এতে সমাসবদ্ধ পদগুলোর নিজস্ব অর্থ না বুঝিয়ে অন্য একটি ব্যক্তি বা বস্তু বোঝানো হয়। “নীলাম্বর” শব্দটি এর চমৎকার উদাহরণ। এই শব্দ বিশ্লেষণের মাধ্যমে বহুব্রীহি সমাসের প্রকৃতি ও প্রয়োগ সহজে বোঝা যায়।
✅ উপসংহার:
সবদিক বিবেচনায় বলা যায়, “নীলাম্বর” শব্দটি বহুব্রীহি সমাসের একটি উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত। এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে, বাংলা ভাষায় শব্দগঠন কেবল অর্থপ্রকাশের জন্যই নয়, বরং তা শৈল্পিক সৌন্দর্যেরও প্রতিফলন। বহুব্রীহি সমাসে শব্দগুলো ভিন্ন মাত্রায় অর্থ সৃষ্টি করে, যা ভাষার গভীরতা ও বিশ্লেষণযোগ্যতা বাড়ায়। বাংলা ব্যাকরণে যারা দক্ষ হতে চান, তাঁদের জন্য এই ধরনের সমাস বিশ্লেষণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও উপকারী।