ক. আরবি
খ. ফারসি
গ. তুর্কি
ঘ. ইংরেজি
✅ সঠিক উত্তর: খ. ফারসি
✍️ ব্যাখ্যা :
“চশমা” শব্দটি বাংলা ভাষায় বহুল ব্যবহৃত একটি বস্তুবাচক শব্দ, যার অর্থ দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে বা চোখ রক্ষা করতে ব্যবহৃত লেন্সযুক্ত ফ্রেম—যা আমরা আজ “চশমা” নামে চিনি। এই শব্দটি বাংলা ভাষায় এসেছে ফারসি ভাষা থেকে।
ফারসি ভাষায় “چَشم” (চাশ্ম) অর্থ “চোখ” এবং এর সাথে যোগ হয়ে “চাশমা” (چشمه) অর্থ দাঁড়ায় চোখের যন্ত্র বা দেখার একটি মাধ্যম। এই অর্থেই এটি পরবর্তীতে দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধির যন্ত্র, অর্থাৎ চশমা হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে।
বাংলায় এই শব্দটি প্রবেশ করে মূলত মুসলিম শাসনামলে, যখন ফারসি ছিল প্রশাসনিক, সাহিত্য ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের ভাষা। চিকিৎসাবিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক ফারসি শব্দ তখন বাংলায় ঢুকে পড়ে। “চশমা” তার অন্যতম।
বর্তমানে “চশমা” শব্দটি শুধু অপটিক্যাল গ্লাস বোঝাতে নয়, সানগ্লাস বা রোদচশমা বোঝাতেও ব্যবহার হয়। যদিও ইংরেজিতে একে “spectacles” বা “glasses” বলা হয়, বাংলা “চশমা” শব্দটি এতটাই আত্মস্থ যে এটি এখন একেবারে স্থানীয় শব্দে পরিণত হয়েছে।
📚 ভূমিকা:
বাংলা ভাষার গঠন ও শব্দভাণ্ডারে ফারসি ভাষার প্রভাব অনেক গভীর। প্রশাসন, সাহিত্য, বিজ্ঞান, পোশাক এবং দৈনন্দিন জীবনের অনেক বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত শব্দ ফারসি থেকে বাংলায় এসেছে। “চশমা” তেমনই একটি দৈনন্দিন গুরুত্বপূর্ণ শব্দ, যা দৃষ্টির সহায়ক।
🔍 সঠিক উত্তর চেনার উপায়:
“চাশ্ম” → ফারসিতে “চোখ”
শব্দটি আরবি বা ইংরেজি ধাঁচের নয়
মুসলিম শাসনামলের সময় বাংলায় প্রবেশ
বাংলা-ফারসি যৌগিক শব্দ গঠনের মিল
এই বৈশিষ্ট্যগুলো দেখে সহজেই বোঝা যায় যে শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে আগত।
✅ উপসংহার:
“চশমা” শব্দটি আজ বাংলাভাষীদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও এর মূল রয়েছে বহু শতাব্দী আগে ফারসি ভাষায়। এটি শুধু ভাষার নয়, বরং সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানের ছোঁয়ায় বাংলা শব্দভাণ্ডারের সমৃদ্ধির একটি দৃষ্টান্ত। বিদেশি শব্দ কীভাবে আমাদের নিজস্ব হয়ে ওঠে—“চশমা” তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ।