ক) তৎসম শব্দ
খ) তদ্ভব শব্দ
গ) দেশজ শব্দ
ঘ) বিদেশি (বিদেশমূলক) শব্দ
✅ সঠিক উত্তর: ঘ) বিদেশি (বিদেশমূলক) শব্দ
📘 ব্যাখ্যা :
“চা” শব্দটি একটি বিদেশি শব্দ, যার উৎস চীনা ভাষায়। চীনা ভাষায় এর মূল রূপ “Cha” বা “Te” — উভয় রূপই বিভিন্ন উপভাষা ও অঞ্চলে ব্যবহৃত হয়। ইংরেজিতে প্রচলিত “tea” শব্দটি এসেছে চীনের আময় ভাষা থেকে, যেখানে “te” বলা হয়। অন্যদিকে, বাংলাসহ অনেক এশীয় ভাষায় “cha” রূপটি জনপ্রিয়, যা ম্যান্ডারিন বা ক্যান্টনিজ ভাষা থেকে আগত।
চীনে প্রাচীনকাল থেকেই চা উৎপাদন এবং চা পানের রীতি প্রচলিত ছিল। পরে এই পানীয় এবং এর নাম ভারতবর্ষ, আরব ও ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলা ভাষায় “চা” শব্দটির প্রবেশ ঘটে চায়না থেকে ব্যবসা ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের মাধ্যমে। ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনকালে চা চাষ শুরু হয় এবং পরবর্তীকালে চা একটি বহুল প্রচলিত পানীয় হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
বাংলা ভাষায় “চা” শব্দটির ব্যবহার আজ এতটাই সাধারণ যে এর বিদেশি উৎস অনেকের অজানাই থেকে যায়। এটি বাংলা ভাষায় বিদেশি শব্দ হিসেবে গৃহীত ও প্রাত্যহিক ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন—
সকালের নাস্তায় চা খাওয়া হয়।
চা খেতে খেতে আড্ডা জমে উঠল।
✍️ ভূমিকা :
ভাষা একটি বহমান ধারা, যা সময় ও প্রয়োজনে নানা ভাষা থেকে শব্দ আহরণ করে নিজেকে সমৃদ্ধ করে তোলে। বাংলা ভাষার ভান্ডারও এর ব্যতিক্রম নয়। নানা বিদেশি ভাষা থেকে আগত অনেক শব্দ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। এইসব শব্দের উৎস কখনো আরবি-ফারসি, কখনো ইংরেজি বা চীনা। “চা” শব্দটি তেমনই একটি বিদেশি শব্দ, যার উৎপত্তি চীনা ভাষা থেকে। আজ এটি শুধু একটি পানীয় নয়, বরং বাংলার সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
🏁 উপসংহার :
“চা” শব্দটি চীনা ভাষা থেকে আগত একটি বিদেশি শব্দ, যা বাংলায় অত্যন্ত জনপ্রিয়। এটি ভাষার বৈচিত্র্য ও শব্দ গ্রহণক্ষমতার প্রমাণ। “চা” শুধুই একটি পানীয় নয়, এটি বাংলার আড্ডা, আতিথেয়তা ও সংস্কৃতির প্রতীক।