ক) তৎসম শব্দ
খ) তদ্ভব শব্দ
গ) দেশজ শব্দ
ঘ) বিদেশি (বিদেশমূলক) শব্দ
✅ সঠিক উত্তর: ঘ) বিদেশি (বিদেশমূলক) শব্দ
📘 ব্যাখ্যা :
“খোদা” শব্দটি বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত একটি বিদেশি শব্দ, যার উৎস ফারসি (পার্সি) ভাষা। ফারসি ভাষায় “খোদা” (خدا) শব্দের অর্থ “ঈশ্বর” বা “সৃষ্টিকর্তা”। এই শব্দটির মধ্যে “খোদ” অর্থ ‘নিজে’ এবং “আ” একটি শ্রদ্ধার্থক উপসর্গ, যার মিলিত অর্থ দাঁড়ায় “যিনি নিজেই বিদ্যমান” বা “স্বয়ংসিদ্ধ সৃষ্টিকর্তা”।
বাংলায় এই শব্দটির আগমন ঘটে মূলত মুসলিম শাসনামলে, যখন ফারসি ছিল প্রশাসনিক ভাষা। মুঘল যুগে ফারসি ভাষা ও সংস্কৃতির ব্যাপক প্রভাব বাংলার সমাজ ও ভাষায় পড়ে। ফলে “খোদা” শব্দটি ঈশ্বর বা আল্লাহ বোঝাতে ব্যবহৃত হতে শুরু করে এবং সাধারণভাবে মুসলমান সমাজে এটি বহুল ব্যবহৃত হয়।
“খোদা হাফেজ”, “খোদার কসম”, “খোদার দয়া” ইত্যাদি প্রবাদপ্রবচন বা কথ্য অভিব্যক্তিতে এই শব্দটির ব্যাপক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। এটি বাংলা ভাষার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক শব্দভাণ্ডারে গভীরভাবে প্রোথিত একটি শব্দ।
✍️ ভূমিকা :
বাংলা ভাষা নানা উৎস থেকে শব্দ গ্রহণ করে তার রূপ ও অর্থকে বিস্তৃত করেছে। ফারসি ভাষা তার অন্যতম প্রভাবশালী উৎস। মুসলিম শাসনামলে প্রশাসনিক, সাহিত্যিক ও ধর্মীয় প্রভাবের মাধ্যমে ফারসি শব্দসমূহ বাংলায় প্রবেশ করে এবং দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহৃত হয়ে বাংলা ভাষার অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। “খোদা” একটি গুরুত্বপূর্ণ ফারসি শব্দ, যা ঈশ্বর অর্থে ব্যবহৃত হয় এবং বাংলার ধর্মীয় ও সামাজিক পরিসরে এক বিশেষ স্থান দখল করে রেখেছে।
🏁 উপসংহার :
“খোদা” একটি ফারসি উৎসজাত শব্দ হলেও এটি এখন বাংলা ভাষার ধর্মীয় ও সাধারণ কথোপকথনের একটি পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য শব্দ। এই শব্দ বাংলা ভাষার বহুভাষিক মেলবন্ধনের প্রমাণ এবং ভাষার অভিযোজনশক্তির দৃষ্টান্ত।