ক. ফারসি
খ. আরবি
গ. তুর্কি
ঘ. উর্দু
✅ সঠিক উত্তর: খ. আরবি
✍️ ব্যাখ্যা :
“দাওয়াত” শব্দটি বাংলা ভাষায় বহুল ব্যবহৃত একটি শব্দ, যার অর্থ আমন্ত্রণ, বিশেষত খাবার খাওয়ার জন্য কারো নিমন্ত্রণ। এটি উৎসব, সামাজিক অনুষ্ঠান বা ধর্মীয় পরিপ্রেক্ষিতেও ব্যবহৃত হয়। শব্দটি এসেছে আরবি ভাষা থেকে।
আরবিতে “دعوة” (da‘wah) শব্দের অর্থ আহ্বান, আমন্ত্রণ, ডাক। এই শব্দটি মূলত ধর্মীয় প্রেক্ষাপটে ব্যবহৃত হলেও, বাংলা ও উর্দু ভাষায় এর ব্যবহার আরও প্রসারিত হয়েছে সামাজিক অর্থে। ফলে “দাওয়াত” বলতে আমরা বুঝি কাউকে খাওয়াতে ডাক বা নিমন্ত্রণ।
মুসলিম শাসনামলে আরবি ও ফারসি ভাষার বিপুল প্রভাব বাংলা ভাষায় পড়ে। ধর্মীয় শিক্ষা, সাহিত্য এবং প্রশাসনের মাধ্যমে বহু আরবি শব্দ বাংলায় ঢুকে পড়ে। “দাওয়াত” তারই একটি। বিশেষ করে মুসলিম সমাজে শব্দটির ব্যবহার ছিল ঘনিষ্ঠভাবে ধর্ম ও সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত।
বর্তমানে “দাওয়াত” শব্দটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাংলা ভাষাভাষীদের মধ্যে জনপ্রিয়। এটি অনেক সময় “নিমন্ত্রণ” শব্দের সমার্থক হলেও এর মধ্যে কিছুটা পারিবারিক, ধর্মীয় বা ঐতিহ্যগত গাম্ভীর্য বজায় থাকে।
📚 ভূমিকা:
বাংলা ভাষার গঠনে আরবি ভাষার অবদান অসামান্য। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রভাবের কারণে আরবি ভাষা থেকে বহু শব্দ বাংলায় গৃহীত হয়েছে। বিশেষত মুসলিম সংস্কৃতি-প্রধান অঞ্চলে এই প্রভাব বেশি। “দাওয়াত” শব্দটি তার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
🔍 সঠিক উত্তর চেনার উপায়:
আরবি “دعوة” (da‘wah) শব্দের অর্থ আহ্বান বা ডাক
ধর্মীয় পরিভাষা হিসেবে এর ব্যবহার ছিল
ফারসি ও উর্দুতে ব্যবহার হলেও উৎস আরবি
বাংলায় এসেছে মুসলিম শাসনকাল ও ধর্মীয় চর্চার মাধ্যমে
এ কারণে শব্দটির শিকড় আরবিতেই রয়েছে।
✅ উপসংহার:
“দাওয়াত” শব্দটি বাংলা ভাষায় শুধু আমন্ত্রণ বোঝায় না, বরং এটি আমাদের সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। এর আরবি উৎস আমাদের ধর্মীয় ও ভাষাগত ইতিহাসকে স্মরণ করিয়ে দেয়। ভাষার এই বৈচিত্র্যই বাংলা ভাষাকে করে তোলে সমৃদ্ধ ও বহুমাত্রিক।